মুক্তিযুদ্ধ

মহিউল ইসলাম মিঠু
মহিউল ইসলাম মিঠু 364 Views

আজ কবিতা লিখতে বসিনি
লিখতে বসেছি এক ইতিহাস
১৪ কোটি বাংলাদেশির বুকে
৪০ বছর তার বসবাস।

আজ ইতিহাস শোনাতে আসিনি
শোনাতে এসেছি এক রাজ্যের কাহিনী
’৭১-এ যাকে বিধ্বস্ত করেছিল
পাকিস্তানের বর্বব বাহিনী।

আজ কাহিনী শোনাতে চাই না
পড়ে শোনাব এক উপন্যাস
যার প্রতি পাতায় পাতায় জড়ানো
কোটি বাঙালির দীর্ঘশ্বাস।

আজ উপন্যাস পড়তে আসিনি
এক ছোটগল্প হাতে নিয়ে এসেছি
এ গল্পে যুদ্ধ শেষ হয়েছে
যুদ্ধের হাহাকার শেষ হয়নি।

আজ ছোটগল্প নয়
শোনাব এক মহাকাব্য
যার প্রতি শ্লোক বলে
বাংলার জয় ভবিতব্য।

না আজ মহাকাব্য নয়
শুনিয়ে যাব এক চারণ কবিতা
যার প্রতি লাইন থেকে ঝড়ে
অনেক আপন হারানোর ব্যথা।

এখন আর চারণ কবিতা নয়
শোনাব এক সুরহারা গান
যে গানের সুরে হারিয়ে ফেলেছি
তিরিশ লক্ষ প্রাণ।

না আজ গান শোনাতে নয়
শোনাতে চাই ৭ মার্চের ভাষণ
যা সাতকোটি মানুষের বুকে
ধরিয়েছিল বিজয়ের কাপন।

আজ আর ভাষণ শোনাব না
শোনাব এক লোককথা,
যার কথায় লুকানো আছে
নরপশুদের বর্বরতা।

আজ লোককথা পড়তে দেবনা
পড়তে দেব এক রম্য রচনা,
কিন্তু আগেই বলে রাখছি
পড়ে হাসি নয়, পাবে কান্না।

চোখের কান্না যদি ঝড়ে যায়
তবে শোনাব এক কৌতুক
জানি তা শুনে নিতান্ত
ভালোমানুষটাও হবেন নিন্দুক।

নিন্দা মাথায় নিয়ে দেব এক ছড়া
প্রতিটা ছন্দ যার
জড়িয়ে রেখেছে
ছেলে-হারা মায়ের হাহাকার
হাজার বিধবার চিৎকার
লক্ষ বীরাঙ্গনার ধিক্কার।

তবে আর ছড়া নয়
এক কমিকস দেব দেখতে
রক্তকে হতে হয়েছিল রঙ
এর ছবিগুলো আঁকতে।

কমিকস নয় তবে একটা
সায়েন্স ফিকশন শোনই তোমায়
সত্যি হয়ত ভীনগ্রহের রাক্ষস
নেমে এসেছিল এই বাংলায়।

এতেও তো হচ্ছে না,
শিকার কাহিনী ছাড়া তো উপায় দেখিনা,
পাকিস্তানীদের সেই মত্ত শিকারে,
মানুষ মরে থেকেছে পড়ে,
পাখির মত পথের ধারে।

একাহিনীতেও তো হল না
শোনো তবে এক চিরন্তন বাণী
লাশ, রক্ত আর মৃত্যু যার
পটভূমির কাহিনী।

হার মেনেছি তাই বানী নয়
ধরছি একটা ধাধা
কিন্তু লাশের ভারী গন্ধে
ধাধাও পড়েছে বাধা।

তবে আর ধাধা নয়
রূপকথাই টেনে আনি
যাতে দুঃখ হল রাজা
আর অশ্রু হল রাণী।

রূপকথাও হার মেনে যায়
লিখি একটা সনেট
রক্ত যার কালি হবে
কলম হবে বয়নেট।
কিন্তু সনেটের চোদ্দ শব্দ চোদ্দটা সাদা লাশ
কীভাবে লিখি সে সনেট, কাটিয়ে লাশের পাশ।

আজ আর তবে সনেট নয়
একটা গীতি কবিতাই হোক
কিন্তু তা শুনে কাঁদছে কেন
স্বর্গ আর মর্ত্যলোক।

এতেও তো হচ্ছে না,
তবে চল ভ্রমণ কাহিনির দরজায়
কিন্তু দারজায় যাই কীভাবে
ভয়, অভিশাপ ছড়িয়ে রেখেছে রাস্তায় রাস্তায়।

থাক তবে ভ্রমণ কাহিনি নয়
একটা প্রবন্ধ পাঠ করে যাই
কিন্তু আক্রোশ-বেদনা ছাড়া
তাতে আর যে কিছুই নাই।

এসব দিয়েও তো হল না
তবে শোনাই এক বিজয় গাঁথা
মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের অস্ত্র
লিখেছিল যার প্রতিটা কথা
বাঙালির বুকের তাজা রক্ত
বাড়িয়েছে যার উজ্জ্বলতা।

এত কিছুতেও তো হল না
দয়া করে উঠবেন না,
ছোট্ট করে বলি সত্যি কথা
না শুনে প্লিজ যাবেন না।

“একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ”
এতটাই সে মহান
সাহিত্যে এমন কী মহত্ব
নেবে তার পাশে স্থান।

Share This Article
মহিউল ইসলাম মিঠু। জন্ম বগুড়ায়। বাবা জহুরুল হক ‘জাহাঙ্গীর’, মা মাজেদা হক ‘কণা’। বাবা সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। চাকুরীর সুবাদে দুয়েক বছর পর পরই বদলি হতেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। বাবার সাথে মিঠু’র শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুরের বিভাগের বিভিন্ন শহরে। দশটার বেশি স্কুল-কলেজ বদলাতে হয়েছে। বেড়ে উঠেছেন সারা বাংলাদেশ (প্রায়) জুড়ে। বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বগুড়া থেকে এসএসসি, সরকারী আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। মহিউল ইসলাম মিঠু কৌতুহলী মানুষ। জানতে ভালোবাসেন। এজন্যই সম্ভবত খুব অল্প বয়সেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। পড়ার অভ্যাসটাই হয়তো ধীরে ধীরে লেখার দিকে ধাবিত করেছিল। বাংলাদেশের প্রথমসারির জাতীয় পত্রিকা, সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটের জন্য লিখেছেন বিভিন্ন সময়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কিশোর-ম্যাগাজিন ‘আজবদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। অনেকগুলো জনপ্রিয় বই অনুবাদ করে বিভিন্ন স্তরের পাঠকের আস্থা অর্জন করেছেন, জিতে নিয়েছেন ভালোবাসা। তার অনুদিত কিছু বই বিভিন্ন সময় জাতীয় বেস্ট-সেলারের তালিকাগুলোতে ছিল।